গল্প কালো রাতের যাদু লেখক হামিম
24-10-24 (07:27)
24-10-24 (07:27)
Writer Hamim
গল্পঃ "কালো রাতের
যাদু"
"রাত তখন প্রায়
১২টা। গ্রামের
মানুষগুলো গভীর
ঘুমে মগ্ন। হঠাৎ
করেই সারা গ্রামে
প্রচণ্ড শীত অনুভূত
হতে শুরু করে, যদিও
সেটা শীতের সময়
নয়। বাতাসে যেন
কিছু অদ্ভুত এক
মিশ্রণ, এমন এক গন্ধ
যা আগে কেউ কখনও
পায়নি।
"গ্রামের প্রবীণ
মানুষগুলো জানে, এর
মানে ভালো নয়। এ
গ্রামের নাম ছিল
হঠাৎনগর। সাধারণ
গ্রাম হলেও কিছু
মানুষ জানত, এই
গ্রামের ভেতরে
লুকিয়ে আছে এক
ভয়ংকর ইতিহাস।
সেই ইতিহাস
জড়িয়ে ছিল কালো
যাদুর সাথে।
"গ্রামের একদম শেষ
প্রান্তে বাস করত
এক বুড়ি মহিলা, নাম
তার রহিমা বেগম।
লোকের মুখে মুখে
প্রচলিত ছিল, সে
কালো যাদুর চর্চা
করে। রহিমা
বেগমের ঘরের
দরজায় কখনও কেউ
খোলার সাহস
পায়নি। তার ঘর
থেকে মাঝেমধ্যেই
ভৌতিক আওয়াজ আসত,
যা মানুষকে
আতঙ্কিত করে
রাখত।
"হামিম, গ্রামের এক
যুবক, সাহসী এবং
বেপরোয়া। সে
সবকিছুতেই
অবিশ্বাসী, এমনকি
কালো যাদুতেও।
একদিন হামিম
সিদ্ধান্ত নিল যে
সে রহিমা বেগমের
বাড়িতে গিয়ে
সত্যটা খুঁজে বের
করবে। গ্রামের
লোকেরা হামিমকে
বারণ করল, কিন্তু
মহিন কারো কথা
শুনল না। সেই
রাতেই হামিম
সাহস করে রহিমা
বেগমের বাড়ির
দিকে রওনা দেয়।
"বাড়ির সামনে
পৌঁছে হামিম থমকে
গেল, চারিদিকে
অন্ধকার, বাতাস
থেমে গেছে,
পরিবেশটা যেন
থমথমে। হামিম
দরজায় কড়া নাড়ল,
কিন্তু কোনো সাড়া
পেল না। কিছুক্ষণ
অপেক্ষা করার পর
সে দরজাটা ঠেলে
খুলে ভেতরে ঢুকে
যায়। ভিতরে ঢুকেই
তার মনে হলো যেন
সময় থেমে গেছে।
ঘরের মধ্যে
চারপাশে ছড়ানো
রয়েছে বিভিন্ন
ধরনের পুরনো বই,
মোমবাতি, এবং
বিভিন্ন ধরনের
তাবিজ।
"হঠাৎই ঘরের এক
কোনা থেকে রহিমা
বেগমের কর্কশ গলা
শুনতে পেল হামিম।
“কে আসছে আমার
ঘরে?” হামিম চমকে
ওঠে, কিন্তু সে
নিজেকে শান্ত
রাখে।
"বুড়ি মহিলা ধীরে
ধীরে তার দিকে
এগিয়ে আসে।
হামিম তার
চেহারায় ভয়ানক
এক অভিব্যক্তি
দেখতে পায়।
মহিলার চোখদুটি
যেন আগুনের মতো
জ্বলছে, আর তার মুখে
এক ধরনের ভয়ংকর
হাসি।
“তুই জানিস না তো
কীসের সাথে পা
বাড়িয়েছিস,”
রহিমা বেগম বলল।
হামিম বলল, “আমি
কোনো ভুয়া জিনিস
বিশ্বাস করি না।
তুমি যদি সত্যি কিছু
করতে পারো, তাহলে
প্রমাণ করো।”
রহিমার ঠোঁটের
কোণে এক
বিদ্রূপাত্মক হাসি
ফুটে উঠল।
“সত্যি জানতে চাস?
তাহলে আয়, দেখাই
তোকে আমার
ক্ষমতা।”
হামিমকে একটি
ঘরের দিকে নিয়ে
যায় বুড়ি। সেখানে
একটি বড় কালো
পর্দার পিছনে
রাখা ছিল কিছু
অদ্ভুত আকৃতির
মূর্তি। মহিলাটি
মন্ত্র পড়তে শুরু
করল। হঠাৎ করেই
বাতাস আবার প্রবল
হয়ে ওঠে। ঘরের
জানালাগুলো প্রচণ্ড
শব্দে বন্ধ হয়ে যায়,
আর মাটিতে কম্পন
শুরু হয়। হামিম
হতভম্ব হয়ে যায়,
তার গায়ে হালকা
শীতল অনুভূতি। সে
দাঁড়িয়ে থাকতে
পারছিল না, তার পা
যেন শক্ত হয়ে
গেছে।
এরপর রহিমা বেগম
বলল, “তুই যা দেখতে
চেয়েছিস, তা তুই
পেয়ে গেছিস।
এবার তুই এ গ্রাম
থেকে পালা, নাহলে
তোকে বাঁচানো
যাবে না।”
হামিম কেঁপে উঠে
বলে, “কিন্তু কেন?
তুমি তো শুধুই একটা
বুড়ি মহিলা।
কিভাবে তুমি এত
শক্তিশালী হলে?”
রহিমা বেগম কাঁধ
ঝাঁকিয়ে বলল, “তোর
মতো অনেকেই এ
প্রশ্ন করেছে, কিন্তু
সবার পরিণতি ছিল
ভয়ংকর। আমি এই
গ্রামের রক্ষক, আমি
যাদু জানি না, যাদু
আমাকে জানে।”
হামিম ধীরে ধীরে
বুঝতে পারে, সে
সত্যিই এমন কিছুতে
পা রেখেছে যা তার
ক্ষমতার বাইরে।
ভয় তার সমস্ত
শরীরে ছড়িয়ে
পড়ল। সে
তাড়াতাড়ি বাইরে
বেরিয়ে আসার
চেষ্টা করল। কিন্তু
দরজাটা যেন আটকে
গেছে। যতই ধাক্কা
দেয়, ততই বোঝে যে
কিছু একটা তাকে এই
ঘর থেকে বের হতে
দিচ্ছে না।
বুড়ি মহিলাটি মৃদু
হাসল এবং বলল, “তুই
আমাকে প্রমাণ
করতে বলেছিস, তো
প্রমাণ পেয়ে
গেলি। এখন তোর পথ
নেই।” এরপরই
রহিমা বেগম হঠাৎ
করে অদৃশ্য হয়ে যায়,
আর হামিমকে
চারপাশে ঘিরে
ধরে অন্ধকার। তার
মনে হলো যেন তার
চারপাশে কেউ
ঘুরছে, কিছু অদৃশ্য
শক্তি তার দিকে
এগিয়ে আসছে।
তখনই হামিম একটি
মন্ত্রের আওয়াজ
শুনতে পায়। গলার
কাছে একটা ঠাণ্ডা
শ্বাস ফেলার
অনুভূতি হলো। সে
দেখতে পেল, তার
চারপাশে অসংখ্য
ছায়ামূর্তি ঘুরছে।
হঠাৎ করেই একটা
ভোঁতা শব্দে তার
শরীরটা মাটিতে
পড়ে যায়।
সকালে গ্রামের
লোকেরা হামিমকে
রহিমা বেগমের
বাড়ির সামনে মৃত
অবস্থায় দেখতে
পায়। তার মুখ বিকৃত,
চোখ খোলা, আর শরীর
জমে গেছে। কেউ
বুঝতে পারছিল না,
কি ঘটেছে
হামিমের সাথে।
রহিমা বেগম সেই
রাতের পর থেকে আর
কখনও দেখা
যায়নি।
গ্রামের মানুষ
এখনো বিশ্বাস করে,
রহিমা বেগমের
কালো যাদু এখনও সে
বাড়িতে রয়েছে।
কেউ আর সেখানে
যাওয়ার সাহস করে
না। বাতাসে মাঝে
মাঝে সেই অদ্ভুত
গন্ধ ভেসে আসে, আর
গ্রামের মানুষ
জানে, সেটা রহিমা
বেগমের কালো
যাদুর প্রভাব।
__"শেষ।
তো গাইজ... লেখক
মারা যাওয়াতে
কার কী অনুভূতি তা
প্রকাশ করেন
কমেন্ট বক্সে.!!