এটা অন্য কিছু ছিলে শেষ পর্ব
21-10-24 (03:29)
21-10-24 (03:29)
Writer Hamim
#এটা_অন্য_কিছু_ছ
িল
পর্ব : ৫ (শেষ পর্ব)
লেখকঃ হামিম!!!
---------------
---------------
---------------
-----------
আমার জীবন
সেদিনই শেষ হয়ে
গিয়েছিল। আমি
বেচেও মরে গেছি।
সেদিন থেকে এখনো
প্রচন্ড কষ্ট হচ্ছে।
আমার বুক ফেটে
যাচ্ছে। আমার হৃদয়
ছিড়ে যাচ্ছে।
মেয়েরা মারা
যাওয়ার পর আমার
সাথে আর সামির
কোন যোগাযোগ
হয়নি।
আমার স্ত্রী
একেবারেই খাওয়া
দাওয়া বন্ধ করে
দিয়েছে। খুব জলদি
সেও অসুস্থ হয়ে
পড়ে।
আমিও আর চাকরিতে
ফিরে যাইনি।
ব্যাংকে যা জমানো
টাকা ছিল তাই
দিয়ে চলছিলাম।
চাকরি করে আর
হতইবা কি? জীবন
তো শেষ হয়ে
গিয়েছে আমাদের।
আমার স্ত্রী আস্তে
আস্তে অনেক বেশি
অসুস্থ হয়ে পড়ে।
সারাদিন মেয়েদের
ছবি কোলে নিয়ে
বসে থাকতো।
আমার শশুর বাড়ীর
লোকজন তাকে নিয়ে
যেতে চাইলেও সে
যেতে চায়নি।
অবশেষে সেই রক্ত
বমি তাকেও পেয়ে
বসে।
আমাকে ছেড়ে সেও
চলে যায় আমার
বাবা মা আর দুই
মেয়ের কাছে।
আমি আমার জীবনে
তখন সেই বয়সে যা
দেখেছি আমার মনে
হয় না আমার থেকে
বেশি আর কেউ এমন
কিছু দেখেছে।
আমার স্ত্রীর মৃত্যুর
পর আমি একদম
চুপচাপ থাকতে শুরু
করি।
বাসার সব লাইট
খুলে ফেলে দেই।
যার জীবনে কোন
আলো আর অবশিষ্ট
নেই এই কৃত্রিম আলো
দিয়ে সে কি করবে?!!
একদিন রাতে শুয়ে
আছি আর নিজের
জীবন নিয়ে
ভাবছি।
এমন সময় আমার রুমে
হালকা আলোর
উপস্থিতি টের
পাই।
দেখি বিড়ালটি
দাঁড়িয়ে আছে যে মৃত
বিড়ালটির পাশে
বসে কান্না
করেছিল।
আজ তার চোখে পানি
নেই।
সে কিছুক্ষণের
মধ্যেই একটা
মানুষের আকৃতি
ধারণ করে। এবং
আমার সাথে যেন
কথা বলতে শুরু করল।
সে মানুষটি আমাকে
বলছিল, কেমন আছেন
আপনি? আমি জানি
আপনি ভালো নেই।
থাকবেন-ই-বা কি
করে। নিজের
সবকিছুই যখন
হারিয়ে যায় তখন
সে কিভাবে ভালো
থাকে?!
এবং সে বলছিল,
আমার নাম আনাস।
আপনার মতো আমারও
কেউ নেই।
কারণ আপনি এবং
আপনার বন্ধু
আপনারা দুজন মিলে
আমার মেয়েকে
মেরে ফেলেছেন।
আমাকে একা করে
দিয়েছেন। আমার
মেয়ের জন্মের পর
আমার স্ত্রী
আল্লাহর ডাকে
সাড়া দিয়ে চলে
যায়।
আমার জীবনে আমার
মেয়েই ছিল
সবকিছু।
আপনারা আমার বুক
খালি করে
দিয়েছেন।
আমার মেয়ের সব
আবদার আমি পূরণ
করতাম যে করে
হোক।
আমার মেয়ে
মানুষের দুনিয়া
ঘুরে দেখার বায়না
ধরেছিল।
তাই আমি তাকে
নিয়ে বের হই।
কিন্তু আপনারা কি
সর্বনাশ-ই না
করলেন।
জিনটি যখন
কথাগুলো বলছিল
তখন তার চোখ দিয়ে
ঝরঝর করে পানি
ঝরছিল।
আমি তখন তাকে
বললাম, মারলে
আমায় মারতেন।
আমার বাবা মা
স্ত্রী সন্তানরা কি
দোষ করেছে?!
তাদের কেন
মারলেন?!
তখন সে বলল,
আপনাকে মেরে
ফেললে তো আর আপনি
কষ্ট কি যন্ত্রনা কি
সেটা বুঝতেন না।
সে জন্যেই এ কাজটি
করেছি।
এ বলে সে চলে যায়।
এরপর থেকে
শুক্রবার বাদে
বাকি প্রত্যেকদিন
স্বপ্নের ভিতর
নিজের জীবনে ঘটে
যাওয়া এসব কিছু
পুনরাবৃত্তি দেখি।
আনাস তার কথা
রেখেছে। সে
আমাকে তার
প্রিয়জন হারানোর
যন্ত্রনা ভুলতে
দেয়নি।
অনেক চেষ্টা
করেছি নিজেকে
শেষ করে দিতে
কিন্তু আনাস তা
করতে দেয়নি।
আমার জীবন চক্রে
আমি বন্দি হয়ে
গেছি।
যা কেবল মৃত্যুই
আমাকে বাঁচাতে
পারে।
আনাস তাকে আমার
কাছে আসতে
দেয়না।
আমার জন্য দোয়া
করবেন যেন মৃত্যু
আনাসের চোখ ফাঁকি
দিয়ে আমার কাছে
আসে। তাহলে আমি
বেঁচে যাই।
আমার জীবন আমি
এখন আল্লাহর
রাস্তায় ব্যয় করে
দিচ্ছি।
যদি পাপ কিছুটা
হলেও কমাতে
পারি।
আমি যা কামিয়েছি
আনাসের মেয়ের
মৃত্যুর কারণে
তাহলে শেষ
বিচারের দিনে
আল্লাহর সামনে
হয়তো দাঁড়াতে
পারব।
কিছুক্ষণ পরেই
এশার আযানের উচ্চ
ধ্বনি মসজিদের উঁচু
মিনার থেকে ভেসে
আসে,
আল্লাহু আকবার
আশহাদু-আল্লাহ্-
ইলাহা ইল্লাল্লাহ্
আশহাদু আন্না
মুহাম্মাদার
রাসূলুল্লাহ্….