গল্পঃ এটা অন্য কিছু ছিল পর্বঃ ৪
21-10-24 (03:20)
21-10-24 (03:20)
Writer Hamim
পর্ব : ৪
#এটা_অন্য_কিছু_ছ
িল
লেখকঃ হামিম।
বাবা মাকে দাফন
করে আমি চলে আসি
বাসায়। বাসায়
এসে প্রচুর
কেঁদেছি।
বাবা মা মারা
যাওয়ার পর আমি খুব
ভেঙ্গে পড়ি।
খুব ভয় হচ্ছিল
ভাবছিলাম স্বপ্নের
কথা জানানোর জন্য
হয়তো আমার আর
সামির বাবা মা
মারা গেছেন।
কেননা সামি স্বপ্ন
দেখেছিল অনেক
আগে।
আর আমি যে দৃশ্য
দেখছিলাম তা
সামি তার স্বপ্নের
কথা বলার পর
থেকেই।
আমি আমার স্ত্রী
সন্তানের কাছেও
বলেছি এই স্বপ্নের
কথা।
তাহলে কি ওদেরও
কিছু হবে!!?
ভেবে আমি আতংকিত
হই। একপ্রকার
পাগল প্রায় হয়ে
যাই।
আমি আমার ছোট দুই
মেয়ের কথা ভেবে
নিজেকে শক্ত করি।
দেখতে দেখতে
বাবা মা মারা
যাওয়ার একবছর
পূর্ণ হয়।
আমিও কিছুটা
নিশ্চিন্ত হই
কেননা আর কিছু এর
মধ্যে ঘটেনি।
একদিন আমি আমার
বাসায় মিলাদের
আয়োজন করি।
সামিকেও আসতে
বলি। সামি তার
স্ত্রী ছেলেকে
নিয়ে আমার বাসার
উদ্দেশে রওনা
দেয়।
আমার বাসায় আসার
পর মিলাদ পড়ানো
হয়।
সব কাজ শেষ করতে
করতে রাত আটটার
বেশি বেজে যায়।
সামিকে রাতে
খেয়ে যেতে বলি।
আমার বাসার
বারান্দায় আমার
মেয়েরা খেলছিল
সামির ছেলের
সাথে।
হঠাৎ অনুভব করতে
শুরু করি আমার
প্রচন্ড কষ্ট
হচ্ছিল।
কষ্টটা ঠিক
যেমনটা আমি
বিড়াল মারা
যাওয়ার দৃশ্য দেখে
অনুভব করেছিলাম।
এবার আমি দেখি
আমি আমার
মেয়েদের পাগলের
মত খুঁজে বেড়াচ্ছি
কিন্তু পাচ্ছিনা।
তখন আবার আমি সেই
কুয়াশা ঘেরা
জায়গাটা দেখি।
যেখানে সেই
বিড়ালটি সামির
ছেলের সাথে খেলা
করতে দেখি।
সামির ছেলে
বিড়ালটিকে কোলে
তুলে নেয়।
আর বিড়ালটি পরম
আদরে চোখ বন্ধ করে
ফেলে।
আবার আমার স্ত্রীর
ধাক্কায় আমার
চেতনা ফিরে আসে।
আমি ভয়ে সামির
ছেলেকে ডাকি
কেননা আমি তাকে
বিড়ালের সাথে
দেখেছি।
যদি তার কিছু হয়
এসব ভেবে আমি এক
দৌড় দিয়ে
বারেন্দায় যেতে
যেতে তাকে ডাক
দেই।
কিন্তু ভাগ্যের কি
নির্মম পরিহাস
বারেন্দায় গিয়ে
দেখি সামির ছেলে
রক্ত বমি করে পড়ে
আছে।
আর আমার মেয়ে দুটি
সেখানে নেই।
আমি বারেন্দার
গ্রীলের ফাঁক দিয়ে
দেখি আমার মেয়ে
দুটি রাস্তায়
হাঁটছে।
কিন্তু তারা
বাহিরে কি করে
গেল আমি কিছুতেই
ভেবে পাচ্ছিলাম
না।
আমি আর আমার স্ত্রী
ছুটে যাই তাদের
বাঁচানোর জন্য।
কিন্তু রাস্তায়
গিয়ে দেখি আমার
মেয়ে দুটির বুকের
উপর দিয়ে একটি
ট্রাক চলে গেছে।
আমি এবং আমার
স্ত্রী একেবারে
নীরব নির্বাক হয়ে
যাই এ দৃশ্য দেখে।
আমি বুক ফাটা কষ্ট
নিয়ে আমার
কলিজার টুকরো
দুটির লাশ নিয়ে
আসি স্ত্রীকে সাথে
করে।
বাসায় এসে দেখি
সামির স্ত্রীও
আমার স্ত্রীর মতো
পাথর হয়ে বসে
আছে।
আমি আর সামি এই
মহাবিশ্বের চেয়ে
ভারি বেশি কষ্ট
নিয়ে সন্তানের
লাশ দাফন করার
মতো কঠিন কাজটি
করি।
আর কবরের পাশে
বসে হাউমাউ করে
কাঁদতে থাকি।
ভোর হলে সামি তার
স্ত্রীকে নিয়ে চলে
যায়।
আমি তাদেরকে
বিদায় দিয়ে বাড়ি
ফিরে এলে আমার
স্ত্রী আমাকে
জড়িয়ে ধরে
হাউমাউ করে
কাঁদতে শুরু করে।
আমি আর নিজেকে
ধরে রাখতে
পারিনি।
আমাদের কান্না
শুনে সেদিন
আমাদের
প্রতিবেশীরা
অনেকেই কেঁদেছিল।
চলবে...
---------------
---------------
---------------
------------
লেখক পরিচিতিঃ
নামঃ আয়মান
কায়েস হামিম।
জন্মঃ ১৫/০৯/২০০৫
বাসাঃ ঈশ্বরগঞ্জ।
বাবার নামঃ ফজলুল
হক আকন্দ।
মায়ের নাম:
হাসিনা সুলতানা
শিউলি।
পেশাঃ HSC
পরিক্ষার্থী।
পেইজঃ Writer Hamim
লেখকের ছোট ভাই
হলো সিয়ামুল
সামি। আর ও এই
গল্পে রয়েছে।
আমরা চার ভাই।
বোন ৩ জন
---------------
---------------
---------------
------------