Trending Stories...

Top Stories
Feature Stories
Running stories
Short stories
লেখকঃ হামীম গল্পঃ এটা অন্য কিছু ছিলো পর্ব ৩
19-10-24 (15:43)
Writer Hamim #এটা_অন্য_কিছু_ছ িল পর্ব : ৩ লেখকঃ হামিম --------------- --------------- --------------- ------------- এই অপূর্ব দৃশ্য দেখতে দেখতে আমি যেন আমার মেয়েদের ছেলেবেলা দেখতে পাচ্ছিলাম। হঠাৎ সামির ধাক্কায় আমি চেতনা ফিরে পাই। এতক্ষণ আমি তোকে যা বলেছিলাম তাকে আমি নাকি কিছু জানাইনি। আর তার সমস্যার সমাধানও দিতে পারিনি। কারন আমি তো আর বিজ্ঞ আলেম কিংবা স্বপ্নের ব্যাখ্যা দাতা নই। আমিও তাকে মনের ভুল বলে সবকিছু স্বাভাবিক ভাবে মেনে নিতে বলি। রাতে তার বাসায় খেয়ে আমি রিকশা নেই। রিকশায় চেপে আমি বাড়ির দিকে যাচ্ছিলাম। আর বারবার সেই দৃশ্য আমার চোখের সামনে ভেসে আসছিল। যা আমি সামির বাসায় দেখেছিলাম মানে অনুভব করেছিলাম। বাসায় এসে দেখি আমার বাবা মা রাতের খাবার খাচ্ছেন। আর আমার স্ত্রীর সাথে গল্প করছেন। আমি ডাইনিং টেবিলে বসে এক গ্লাস পানি পান করে তাদের কাছে সব কথা শেয়ার করি। আমার মা আমাকে বলেন আমি ছোটবেলা থেকে বিড়াল পছন্দ করি বলে হয়তো এমনটা অনুভব করছি। আমিও তাই ভাবলাম। কারণ সেই মুহূর্তে এটা ছাড়া আমি আর কিইবা ভাবতে পারতাম। আমি ফ্রেশ হয়ে আমার মেয়েদের রুমে গিয়ে দেখি তারা খেলা করছে। আমি তাদের ঘুমিয়ে পড়তে বলি কিন্তু তারা আমার কাছে গল্প শোনার জন্য বায়না ধরে। আমি বারবার তাদের ঘুমিয়ে যেতে বলি কিন্তু তারা নাছোড়বান্দা। আমি তাদের বিছানায় শুইয়ে দিয়ে গল্প শুরু করতে যাবো ঠিক তখনি আবার আগের মতো আমার চোখের সামনে ঘন কুয়াশার ভেতর দিয়ে সেই বিড়াল দুটিকে হেঁটে যেতে দেখতে পাই। বয়স্ক বিড়ালটি তার বিড়াল ছানাটিকে নিয়ে হেঁটে চলেছে। কিছুক্ষণ পর পর তারা দাঁড়াচ্ছে আর বাচ্চাটি তার বাবার লেজ ধরে খেলা করছে। এসময় ছোট বিড়ালটি দৌড় দিয়ে সামনে যেতেই আমি দেখি একটা গাড়ি বাচ্চাটিকে চাপা দিয়ে দাঁড়িয়ে পড়ে। এরপরই বাবা তার সন্তানের নীথর দেহের পাশে বসে কান্না করতে শুরু করে। এতক্ষণে সে আমার দিকে একটি বারের জন্য তাকায়নি। কিন্তু এইবার সে আমার দিকে তার অশ্রুসিক্ত চোখ তাঁক করে দেখছিল। বিড়ালটি আমার দিকে তাকানোর সাথে সাথেই আমার কেন জানি খুব কষ্ট হচ্ছিল। আমার মনে হচ্ছিল যেন আমার মেয়ে মারা গেছে। আর আমি আমার মেয়ের পাশে বসে কাঁদছি। আমার মনেই হচ্ছিল আমার কলিজার টুকরা আমার চোখের মণি আমার মেয়ে আমাকে ছেড়ে না ফেরার দেশে চলে গেছে। আমি প্রচন্ড কষ্ট পাই। প্রচন্ড জোরে কেঁদে উঠি। আমার কান্নার আওয়াজ শুনে আমার মা আমার স্ত্রী রুমে এসে ধাক্কা দেয় আর আমার চেতনা ফিরে আসে। আমি দেখি আমার মেয়ে দুটি কাঁদছে। আমি তাদের জড়িয়ে ধরে তাদের কান্নার কারণ জিজ্ঞেস করতেই তারা বলে, আমি নাকি বিড়াল মারা যাওয়ার কথা বলে চুপ করে বসেছিলাম। আর হঠাৎ আমি নাকি কেঁদে উঠি। আমি আমার মেয়েদের দেখে যেন প্রান ফিরে পাই। তাদের জড়িয়ে ধরে আবার আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করতে থাকি আমার মেয়েদের যেন তিনি রক্ষা করেন। সেই রাতে আমি আমার মেয়েদের রুমেই থেকে যাই। আর সারারাত তাদের দিকে তাকিয়ে থাকি। এবং সেই মৃত বিড়ালটির কথা ভেবে চোখের পানি ফেলতে থাকি। এরপর কয়েকদিন পার হয়ে যায়। আমি আর কোনো কিছুই অনুভব করছিলাম না। কিন্তু একটা বেপার লক্ষ্য করতে থাকি আর তা হলো সামিকে ফোন দিলেও সে আর আমাকে নিতে আসেনা। কয়েকদিন এমন চলায় আমি বাসায় একদিন হাজির হই। বাসায় গিয়ে দেখি তার বাসায় তালা দেওয়া। আমি তাকে ফোন দিলে সে বলে তার মায়েরও নাকি তার বাবার মতো লিভার নষ্ট হয়ে গেছে। তা শুনে আমি রীতিমতো অবাক হয়ে যাই। হসপিটালে গিয়ে দেখি তার মায়ের মুখ দিয়ে রক্ত ঝরছে। তিনি কোনো কথাই বলতে পারছিলেন না। ঠিক সামির বাবার মতই। তিনি এতো কষ্ট সহ্য করেও ছেলেকে কাছে টেনে বারবার মাথায় হাত বুলাচ্ছেন। কিছুক্ষণ পর দুনিয়ার মায়া ত্যাগ করে তিনিও পরপাড়ে চলে গেলেন। আমার মধ্যে আর এসব সহ্য করার শক্তি ছিল না। কিছুক্ষণের মধ্যেই আমি জ্ঞান হারাই। জ্ঞান ফিরে দেখি আমি আমার বাসায়। আমার স্ত্রী কান্না কন্ঠে বলছে আমার বাবা মা দুজনেই নাকি খুব রক্ত বমি করছে। আমার স্ত্রীর কথা শুনে আমার আর কিছু বুঝতে বাকি রইলো না যে, আমার বাবা মাকে হয়তো আমি হারাতে যাচ্ছি। আমি দ্রুত অ্যাম্বোলেন্স কল করে তাদের নিয়ে হসপিটালে যাওয়ার পথেই তারা আমার সঙ্গ ছেড়ে আল্লাহর দরবারের উদ্দেশ্যে পাড়ি জমান। আমি আমার বন্ধু সামি আমরা আমাদের বাবা মা’কে হারিয়ে ফেলি চিরদিনের জন্য। আমি সেদিন চুপ করে সব দেখেই যাচ্ছিলাম। কথায় আছে না অতি শোকে পাথর। মনে হয় আমারও তাই হয়েছিল। চলবে.....
0 comment of posting লেখকঃ হামীম গল্পঃ এটা অন্য কিছু ছিলো পর্ব ৩
24

no comment
Name:

Comment:

Smilies List
Copyright © 2024
online: 0 | hits: 1190x
© 2024