ভয়ংকর সুন্দর ৩টি গল্প
22-11-24 (02:23)
22-11-24 (02:23)
রাজীব নুর ›
বিস্তারিত পোস্টঃ
তিনটা (ছোট) ভূতের
গল্প
০২ রা এপ্রিল, ২০২০
রাত ১১:৫১
১। রাত একটা।
বাইরে বেশ ঝড়
তুফান হচ্ছে। তীব্র
বাতাসের শোঁ শোঁ
শব্দ মনে ভয় ঢুকিয়ে
দেয়। ধূম ধূম বাজ
পড়ছে। মনে হচ্ছে
সারা শহর আজ ধ্বংস
হয়ে যাবে। আমি
দরজা জানালা বন্ধ
করে কুন্ডুলী
পাকিয়ে বিছানায়
শুয়ে আছি। আজ
বাসায় কেউ নেই।
আমি একা। ঘুমাতে
চেষ্টা করছি।
কিন্তু কিছুতেই ঘুম
আসছে না। এমন সময়
শুনতে পেলাম
দরজায় কে যেন নক
করছে।
এত রাতে কে এলো?
তাও এই ঝড় তুফানের
রাতে। আমি বিরক্ত
হয়ে বললাম, কে?
কে? কোনো সাড়া
শব্দ পেলাম না।
কিন্তু আবার দরজায়
খট খট শব্দ। মেজাজ
খুব খারাপ হলো।
দরজা খুললাম।
দরজা খুলে আমি
প্রচন্ড অবাক! রফিক
এসেছে। আমার
বাল্য বন্ধু। স্কুল
কলেজে আমরা
একসাথে পড়েছি।
রফিককে দেখে আমি
সীমাহীন ভয়
পেলাম। আমার
মাথা কাজ করছে
না। সমস্যা হলো
রফিক আজ থেকে তিন
বছর আগে সড়ক
দূর্ঘটনায় মারা
গেছে।
২। এক লোক খুব
বিরক্ত।
তার খুব শখ ভূত
দেখবে। সারারাত,
কবরস্থান, বনে
জঙ্গলে ঘুরেও সে
ভূতের দেখা পায়
নি। এই নিয়ে তার
দুঃখের শেষ নেই।
সে চায় ভূত দেখে
এমন ভয় পাবে যে-
ভয়ের চোটে কাঁপতে
কাঁপতে তার জ্বর
এসে যাবে। কলিজা
কেঁপে উঠবে। যাই
হোক, ভূতের দেখা না
পেয়ে সেই লোক
ভূতের বই আর ভূতের
মুভি দেখা শুরু
করলো। ভূতের বই
এবং মুভি দেখে তার
মেজাজ আরো খারাপ
হয়ে যায়। প্রচন্ড
ভূতের বই আর মুভি
দেখে তার হাসি
পায়।
লোকটির বাসার
সামনেই একটা
কবরস্থান।
একদিন রাতে ভূতের
মুভি দেখে তার
মেজাজ খুব খারাপ
হলো। মেজাজ
খারাপ ঠিক করার
জন্য সে কবরস্থানে
গেলো। চিৎকার
করে বলল, হে ভূত
আমাকে দেখা দাও।
মৃত্যুর আগে আমি ভূত
দেখে মরতে চাই।
প্লীজ আসো। আসো।
জোছনা রাত ছিলো
সেদিন। হঠাত
বিশাল এক খন্ড মেঘ
এসে চাদটা ঢেকে
দিলো। চারপাশ
মুহুর্তের মধ্যে
অন্ধকার হয়ে গেল।
হঠাত চারিদিকে
খুব বাতাস বইতে শুরু
করলো। গাছের
আড়ালে লোকটা
হয়তো কিছু একটা
দেখেছে। তারপর
লোকটার মৃত্যু হয়।
৩। বাসায় কেউ
নেই।
বউ বাচ্চা সব
বেড়াতে গেছে।
আমি চাকরির
খাতিতে যেতে
পারি নি। বউ
রান্না করে রেখে
গেছে। আমি ফ্রিজ
থেকে খাবার গরম
করে খেয়ে নিই।
রাত এগারোটা
বেজে গেছে।
কম্পিউটারে মেইল
চেক করে ঘুমাতে
গেলাম। আমার
ঘুমের কোনো সমস্যা
নাই। মুহুর্তের
মধ্যে গভীর ঘুমে
তলিয়ে গেলাম।
হঠাত তীব্র বেলী
ফুলের ঘ্রানে ঘুম
ভেঙ্গে গেল। কয়টা
বাজে জানি না।
তবে আনুমানিক রাত
তিনটা হবে হয়তো।
মনে হচ্ছে ঘরে কেউ
একজন আছে। সে
হাঁটছে। তার
হাতের কাঁচের
চুড়ির শব্দ পাচ্ছি।
মেয়েটা হয়তো চুলে
বেলী ফুলের মালা
পড়েছে। আমি যে
লাইট জালিয়ে
দেখব ঘটনা কি, সেই
সাহস পাচ্ছি না।
ভয়ে আমার হাত পা
কাপছে।
আমি বালিশ দিয়ে
মাথা ঢেকে
রেখেছি।
কিন্তু খুব বুঝতে
পারলাম মেয়েটা
আমার মাথার কাছে
বসেছে। আমার
মাথার উপর থেকে
বালিশটা সরিয়ে
দিলো। মেয়েটা এক
আকাশ ভালোবাসা
নিয়ে আমার মাথায়
হাত রাখলো।
স্পর্শে বুঝলাম
মেয়েটা ভালোবাসা
নিয়ে মাথায় হাত
রেখেছে। আমি
গভীর ঘুমের ভাব
ধরে মটকা মেরে
আছি।
খুব ভোরে ঘুম
ভাঙ্গলো। মনে মনে
ভাবছি রাতের
স্বপ্নটা বেশ সুন্দর
ছিলো। ঘরে কেউ
নেই অথচ বেলী
ফুলের গন্ধ ঠিকই
আছে। বেলী ফুলের
গন্ধটা আমার ভীষন
প্রিয়। বিছানা
থেকে নামার সময়
দেখি- আমার
বালিশের পাশে
দু'টা বেলী ফুলের
মালা পড়ে আছে।
ম